সময় সভ্যতা
যশ চক্রবর্তী
দিন রঙ দুপুর রঙ সন্ধ্যে রঙ
রঙ রাত গভীর
চেনা বাঁশির ফুঁ রঙ রঙিন বাদকের ঠোঁটে
নিঃশব্দে বেজে ওঠে
রঙ সমীর
ভেদ করে ছড়িয়ে পড়ে অদম্য চিৎকার
আরও দরকারি আটকানো দুটো পা দুটো হাত
আমার মুখ প্রতিচ্ছবি আমার সত্ত্বা আমার জাত
আরও নিচে শিকড়
পা থেকে বেরিয়ে নিথর
উল্টোনো যেন গাছ
ছড়ানো শিকড় যেন উম্মুক্ত ডালপালা
বাঁচার মন্ত্রপূতঃ কাঁচ
দিন কালো দুপুর কালো সন্ধ্যে কালো
কালো রাত গভীর
আমার কথা আছে লেখা
নিভৃতে নিবিড়
গা থেকে ছালবাকল সরিয়ে
কেটে ক্ষত করে যতোই দাও উড়িয়ে
অন্তর্মুখী
তারও নিচে শিরায় জাইলেমে
নামে বেনামে
আদিম বুড়োরা আসে হাতে কাঁচ নিয়ে
জাইলেমে ওরা কাঁচ রেখে ভাবে
অক্ষর বর্ণমালা বিরাট হবে কখন
এরপর যথেষ্ট পূর্বাভাসে
আরও মোটা আরও অতল কাঁচ নিয়ে আসে
অক্ষর বর্ণমালা আরও বিরাট দেখায় তখন
অবোধ্য কার সাধ্য যে বোঝে
এসব বলে আদিম বুড়োরা ঘরে ফিরে যায়
আবার আসে পড়ে থাকা ব্যর্থতায়
দিন সাদা দুপুর সাদা সন্ধ্যে সাদা
সাদা রাত গভীর
হাতের তালু থেকে লোম গেছে খসে
ব্যাস্তবাগীশেরা স্থির
আরও ছোটবেলায় লোম ছিলো বোধহয়
সবুজ তালুতে এখন অজস্র আঁকিবুঁকি সময়
শিরায় উপশিরায় জাল জাল
দ্বিমাত্রিক বুনোট সভ্যতার ঢাল
ভাগ্য হৃদয় আয়ু সব ফেঁসে গেছে জালে
তারও নিচে তরুনাস্থি
প্রাচীন সিলমোহরের ছাপ কেউ কেউ বলে
যে আসে দিগ্বিজয়ের পতাকা
পুঁতে রেখে যায়
নির্দ্বিধায়
পশ্চিমে আজ সূর্যাস্তের পর
পূবে সূর্য উঠবে কাল নিশ্চিত
ডালপালা মুন্ডু কান্ড হাতের তালু
পাতা শাখা প্রশাখা সন্ততিরা
আমার মুখ
চোখ শিরা জাইলেম আদিম বুড়োরা
সবাই ছুটবে সূর্যের দিকে
তাও নিশ্চিত