বাতাসের মিঠে গন্ধে পাখিদের ডানায় জাঁকিয়ে বসে রোদ। এই রোদ ক'দিনেরই বা জন্য। বড়ো জোর সেপ্টেম্বরের শেষ বা একটু বাড়িয়ে অক্টোবরের কোনো এক সময় পর্যন্ত। তারপর তো শুধুই ঝরা পাতা। তাই এই রোদ যতোটা পারা যায়, গায়ে মেখে নাও। খোলা আঁচলে ছেয়ে যাচ্ছে তেপান্তরের মাঠ। ঝকঝকে রবিবারের দুপুর। উজ্জ্বল। আধুনিক হেঁসেলে নানা রঙের খেলা। বাসনপত্রের ঠোকাঠুকি। শব্দমূর্ছনা। রসায়নে জারিত জায়ফল। লালিত্য লবঙ্গে সুখ মনে হয় কুড়িয়ে তোলা শিউলি ফুলের মতো। আকাশের দিকে তাকালে মনে হয় এই বুঝি শরত এলো। নীল আকাশে চালাও পানসি মেঘের ভেলা। ঘি-য়ে চুপচুপ। আহা, স্বপ্নের মাঝে বাস। কল্পনায় তাই বিরিয়ানি এঁকে ফেলি। জায়ফল, লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনি, ঘি-তে মিশ্র রাগের জাদুকরী বন্দিশ। কিন্তু বাস্তবও কম মোহময় নয়। আলু দিয়ে কচি পাঁঠার পাতলা ঝোল। গন্ধে ম ম বাড়ি। জানলা দরজা খুলে দেওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। এই সুগন্ধি বাতাস থাকুক। এটাই তো খোলা হাওয়া। ছেলেবেলা ভেসে ওঠে। খোলা হাওয়া, চল নিয়ে আমায়রাস্তা পেরিয়ে - ছেলেবেলায়তাসের দেশ, বেপরোয়াচল নিয়ে আমায়, খোলা হাওয়া তুফানি মশগুল, মিথ্যে মনখারাপপালিয়ে ইস্কুল, হিসেবের বাইরে পুণ্য পাপশীতঘুম ছুটি, কুয়াশা কাটিয়ে ট্রেনফেলে আসা খুনসুটি, ডাকছে আমায় সাইরেন যে নদীর পাড়ে শিশির লুটিয়ে থাকতো, সে নদী লুপ্ত এখন। শিশির ভেজা পায়ের ছাপে শিউলি ফুলের স্বপ্নেরা তাই বিলীন। দুঃখ শোকের কথা ততোটা মনে পড়ে না। দরকারও নেই। মনজমিনে সুখ জোনাকির আলোয় জেগে থাকে। জেগে থাকে বিলম্বিত লয়। হয়তো বা কিছুটা প্রশ্রয়। তবলা লহরাতে নিটোল আলোর প্রতিসরণ। সেই আলোয় বাতাসের মিঠে গন্ধ আরও ভাস্বর হয়ে ওঠে।উঠুক। তুমি কি যাবে আমার সাথে?এই অবেলায়, উন্মুখরেখে হাত, আমার হাতে?