পুজো সিরিজ - ফেলে আসা অষ্টমী
যশ চক্রবর্তী
শরত-নীল আকাশের গায়ে হালকা তুলোর মেঘ
কাশ ফুলে ছেয়ে গেছে মজলিসের প্রাঙ্গন
হাওয়ায় ভেসে আসে
দিপু-দার সেই অসীম কন্ঠস্বর
“আগত দর্শনার্থীদের জানাই শারদ শুভেচ্ছা”,
যদি একবার কোনো ভাবে দিপু-দা হওয়া যেতো,
যদি একবার, একবার পাওয়া যেতো
পৃথিবীকে জানিয়ে দেবার সেই অমোঘ যন্ত্র-খানা হাতে !
বুড়ো-দার পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা
অজ্ঞাত কোনো জাদুকলায় ঢাকের কাঠি দুটো যদি এসে যেতো হাতে
যেন জিতে নেওয়া যেতো কঠিনতম কোনো কম্পিটিশনের ফার্স্ট প্রাইজ !
ধুনুচি নাচ, এলোমেলো আড্ডা,
ক্যাপ-ফাটানো বন্দুক, মনে মনে অমিতাভ কখনো বা মিঠুন
কার কতো ঘেরের পান্ট - তোর বাইশ তো আমার বত্তিরিশ;
কিম্বা তোমার শাড়ি পড়ে হঠাত বড়ো হয়ে যাওয়া …
তখন ই-মেল কোথায়? কোথায় ব্ল্যাকবেরী,
কিম্বা হাতের তালুতে বন্দী আইফোন !
তবু দুম-দাম করে, কি করে যে জুটে যেতাম সবাই !
হুলুস্থুল করে রাত জাগা, দেদার ফুর্তি,
কোলাহল জনবহুল কলেজ স্কোয়ার থেকে
ভীড়-ঠ্যালা মুদিয়ালির পুজো,
হেঁটে পার হয়ে যেতো আলোর তোরণে ঢাকা শহর কোলকাতা |
উড়ালপুল-হীন, গুগলম্যাপ-হীন জনস্রোতে
মিশে যেতো তোমার আমার সমান্তরাল জীবন ...