আয়ুষ্মান
যশ চক্রবর্তী
আয়ুষ্মান হঠাতই অসুস্থ হয়ে গেলো।
আয়ুষ্মান চোখে দেখতে পায় না, শুনতে পায় না কানে। অথচ আয়ুষ্মানের সুস্থ থাকার কথা ছিলো।
কথা ছিলো চোখে দেখতে পাওয়ার, কথা ছিলো কানে শুনতে পাওয়ার।
কথা তো ছিলো অনেক কিছুই, কিন্তু হোলো কই?
প্রয়োজন ছিলো আয়ুষ্মানের আরেকটু উঁচু হয়ে ওঠার - বদলে নুইয়ে গেলো লোকটা।
কি কম ছিলো লোকটার?
ছিলো বিশ্বাসের মুষ্টিবদ্ধ আহ্বান,
ছিলো গলার শিরা ফুলে ওঠা বজ্রকঠিন অঙ্গীকার, ছিলো প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বিশ্বাসের আদান প্রদান,
ছিলো প্রেম, ছিলো অতল গভীর চোখে সমুদ্রের উদ্দামতা, ছিলো প্রখর আত্মসম্মান।
উৎসবের স্বপ্নবোধে
যে লোকটার বাঁচবার কথা ছিলো, ব্যস্ত এখন, লড়ছে শেষ পাঞ্জা লড়াই মৃত্যুর সাথে ...
এভাবে আরো কয়েকটা দিন । আরো কয়েকটা মাস । কিংবা গড়িয়ে গড়িয়ে আরো কয়েকটা বছর ...
শয্যাশায়ী আয়ুষ্মানের এটাই এখন বাস্তব। এ বাস্তব বড়ই প্রখর।
আয়ুষ্মানের অনেক কিছু করার ছিলো - অথচ আয়ুষ্মান মারা যাবে।
শেষ হবে
উৎসবের রঙিন স্বপ্নবোধ, প্রেম ফুরোবে,
বজ্রকঠিন অঙ্গীকার ভাঙা কাঁচের মতো ছড়িয়ে যাবে।
অবিশ্বাসের চোরাবালিতে মুখ লুকোবে আহ্বান, দৃষ্টি পাথর হবে শুকনো অন্ধ চোখ ...
তারপর হয়তো কিছুদিন, কয়েকটা মাস, বড়জোর এক বছর - তারপর সবাই ভুলে যাবে যতো শোক
ভাবছি কি তা'লে বলো -
আয়ুষ্মান না হওয়াই ভালো?